ইউরোপের এসিসি ব্র্যান্ডের ‘কাপ্পা’ সিরিজের উচ্চ কার্যক্ষমতাসম্পন্ন, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব কমপ্যাক্ট ডিজাইনের কম্প্রেসর উৎপাদন শুরু করেছে ওয়ালটন। ফলে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী রেফ্রিজারেটরের স্থানীয় চাহিদা মিটবে। পাশাপাশি এ কম্প্রেসর ইউরোপসহ উন্নত বিশ্বে রফতানি বাজার সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে।
সম্প্রতি গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটন হেডকোয়ার্টারসে দেশের প্রথম ও একমাত্র কম্প্রেসর কারখানায় এসিসি ব্র্যান্ডের কাপ্পা কম্প্রেসর উৎপাদন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক এসএম নূরুল আলম রেজভী।
অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এসএম মাহবুবুল আলম বলেন, ‘স্মার্ট ডিজাইন, দীর্ঘস্থায়িত্ব ও শ্রেষ্ঠ কার্যক্ষমতার এক নিখুঁত মেলবন্ধনে কাপ্পা কম্প্রেসর উৎপাদন ওয়ালটনের রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন টিমের অসাধারণ সাফল্য। বাংলাদেশ যে বিশ্বমানের শিল্প ও প্রকৌশল উদ্ভাবনে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম, তা ওয়ালটনের এ সাফল্যের মধ্য দিয়ে আরেকবার প্রমাণ হলো।’
তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের হাই-টেক শিল্প খাতে কম্প্রেসর অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি খাত। এর বিশাল আন্তর্জাতিক বাজার রয়েছে। ওয়ালটনের লক্ষ্য, দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ কম্প্রেসর রফতানিকারক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করা। এরই মধ্যে ওয়ালটনের তৈরি কম্প্রেসর ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রফতানি হচ্ছে। এসিসি ব্র্যান্ডের কাপ্পা কম্প্রেসর উৎপাদন শুরুর পর থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বায়াররা ব্যাপক আগ্রহ দেখাচ্ছেন।’
অনুষ্ঠানে ওয়ালটন কম্প্রেসরের চিফ বিজনেস অফিসার এসএম আলমাস রহমান বলেন, ‘কাপ্পা কম্প্রেসর আকারে ছোট ও সুবিন্যস্ত। এ কারণে এটি রেফ্রিজারেটরের ভেতরের জায়গা সাশ্রয় করে এবং একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় শীতলীকরণ চাহিদা পূরণে বিস্তৃত কুলিং ক্যাপাসিটি নিশ্চিত করে। ২ দশমিক ১৫-এর অধিক সিওপি (কো-এফিশিয়েন্ট অব পারফরম্যান্স) এবং পরিবেশবান্ধব সক্ষমতার ফলে এটি সহজেই ফাইভ স্টার এনার্জি এফিসিয়েন্সির মানদণ্ড পূরণ করতে পারে।’
তিনি আরো বলেন, ‘প্রতিকূল ও চ্যালেঞ্জিং পরিবেশে বিদ্যুৎ সরবরাহে নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ভরযোগ্য পারফরম্যান্স নিশ্চিত করতে কম্প্রেসরটি ৮৫-৩০০ ভোল্ট পর্যন্ত কার্যকর ওয়াইড ভোল্টেজ রেঞ্জে কাজ করতে সক্ষম। ফলে অতিরিক্ত স্ট্যাবিলাইজার ছাড়াই এটি স্থিতিশীলভাবে পরিচালিত হয়, যা গ্রামীণ ও ভোল্টেজ ওঠানামাপ্রবণ এলাকার জন্য উপযোগী। এর আল্ট্রা লো নয়েজ লেভেল গ্রাহকের আরাম ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলেও জানান ওয়ালটনের এ কর্মকর্তা।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ওয়ালটন দেশের একমাত্র কম্প্রেসর উৎপাদন শিল্প স্থাপন করায় বাংলাদেশ এশিয়ার অষ্টম ও বিশ্বের ১৫তম কম্প্রেসর উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। ওয়ালটনের কম্প্রেসর কারখানায় উৎপাদন লাইনের পাশাপাশি রয়েছে আন্তর্জাতিক মানের মান নিয়ন্ত্রণ পরীক্ষাগার, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ল্যাব সরঞ্জাম ও মেশিনারিজ। এখানে কম্প্রেসর উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে মান নিয়ন্ত্রণে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। ফলে ২০১৭ সালে কম্প্রেসরের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর মাত্র দুই বছরের মধ্যে ইউরোপে রফতানি কার্যক্রম শুরু করতে সক্ষম হয় ওয়ালটন। এছাড়া ২০২২ সালে ইউরোপের খ্যাতনামা ইতালিয়ান ব্র্যান্ড এসিসির কম্প্রেসর ম্যানুফ্যাকচারিং প্লান্ট, প্রযুক্তি ও মেধাস্বত্ব অধিগ্রহণ করে ওয়ালটন।